দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মায়ের সঙ্গে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী মেইল বাসের ধাক্কায় ফারহানা সাদিকা শিফা (৯) নামের তৃতীয় শ্রেণির শিশুশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শিফার অকাল মৃত্যুতে এলাকা ও বিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটায় ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী পৌরশহরের বাসষ্ট্যান্ড বটতলী নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক সড়কের অবস্থান ও গাছের গুল ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ জানান এলাকাবাসী।
নিহত ফারহানা সাদিকা শিফা ফুলবাড়ী পৌরএলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের ইস্তামুল হক ও রিক্তা বানু দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় নর্থ পয়েন্ট আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা রিক্তা বানুও একই স্কুলের আয়া পদে কর্মরত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে সাতটায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মা রিক্তা বানুর সঙ্গে বের হয় ফারহানা সাদিকা শিফা। পথিমধ্যে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী পৌরশহরের বাসষ্ট্যান্ড বটতলী নামক এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় দিনাজপুর থেকে ছুটে আসা বগুড়াগামী দ্রুতগতির একটি মেইল বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৩১৫) ফারহানা সাদিকা শিফাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা ফারহানা সাদিকা শিফাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সকাল সোয়া ৯টা থেকে দুইঘণ্টা ব্যাপী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিয়ে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছানের আশ্বাসে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এলাকাবাসী আব্বাস আলী ও শহিদুল ইসলাম বলেন, ফুলবাড়ী শহরে সচরাচর ছোটবড় নানান দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। আমাদের দাবি ফুলবাড়ী শহরে বাসের সর্বোচ্চ গতি ২০ রাখতে হবে অথবা বিকল্প হিসেবে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এর ফলে শহরে হতাহতের সংখ্যা কমে আসবে।
থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) ফেরদৌস আলম জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাত্রীবাহী (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৩১৫) আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তার হেলপার (সহকারী) পলিয়ে গেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: